উচ্চস্বরে আমীন বলা যাবে কি

 >>>> জেহরী ছ্বলাতে উচ্চস্বরে আমিন বললে ইহুদী বা খ্রীষ্টানদের অন্তরে ঘা লাগে

বা তথাকথিত হানাফী মাযহাবীদের অন্তরেও ঘা লাগে তাদের সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) এর মন্তব্য জানার চেষ্টা করি? <<<<


পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা হল, ‘সূরাতুল ফাতেহা’। আর এর মৌলিক আবেদন হল, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন’। এই মৌলিক প্রার্থনা হতে কোন মুছল্লী বিরত থাকতে পারে কি? এছাড়া উক্ত সূরার মাধ্যমে মুছল্লীরা প্রতিনিয়ত ইহুদী-খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। সেজন্য শেষে দু‘আ কবুলের জন্য উচ্চকণ্ঠে ‘আমীন’ বলে। আর এই আমীনের শব্দ শুনে ইহুদীরা সবচেয়ে বেশী হিংসা করে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মুছল্লী এক সঙ্গে ছালাত আদায় করছে অথচ ইমাম ব্যতীত কোন মুছল্লী কোন রাক‘আতে সূরা ফাতেহা পাঠ করে না। শেষে উচ্চকণ্ঠে আমীনও বলে না। তারা ছালাতের ভিতরে উক্ত প্রার্থনা পরিত্যাগ করলেও ছালাতের পরে প্রচলিত বিদ‘আতী মুনাজাত ছাড়তে চায় না।


অন্যদিকে সূরা ফাতেহা পাঠের বিরুদ্ধে অসংখ্য জাল ও বানোয়াট বর্ণনা তৈরি করে মুছল্লীদেরকে প্রকৃত সত্যের আড়ালে রাখা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের শিকড় কি তাহলে এত গভীরে! আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। এই প্রসঙ্গে আরও বলা যায় যে, আমাদের অনেক মুসলিম ভাই আছেন যারা অপর কোন মুসলিম ভাই যদি সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার পরে উচ্চস্বরে আমিন বলে তাহলে তাদের অন্তরে ঘা লাগে। ভাই এটা কিন্তু ভাল লক্ষন নয়।


আমরা অনেকে হয়তো বিভিন্ন কারণে বা অজুহাতে এই জেহরী ছ্বলাতে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতে পারি না। কিন্তু আমার আরেক ভাই রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) এর সুন্নতকে ভালবেসে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতেছে। অথচ আমরা সেই প্রকৃত সহীহ হাদীসটিকে অপছন্দ করবো কোন যুক্তিতে?

হানাফী মাযহাবে প্রকৃত হাদীসটিকে পাশ কাটানো হয়েছে বলে বা নেই বলে তাহলে নিম্নের এই সহীহ হাদীস দেখুন এবং নিজের মধ্যে যদি এই স্বভাব থাকে তাহলে পরিবর্তন করুনঃ-


১। আয়েশা (রাঃ) হতে নাবী (ছাঃ) সূত্রে বর্ণিত রাসুল (ছাঃ) বলেছেনঃ


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله


ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) — আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রে নাবী (ছাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ইয়াহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এত ঈর্ষান্বিত হয় না, যতটা না তারা তোমাদের সালাত ও আমীনের উপর ঈর্ষান্বিত হয়।” (তথ্যসূত্রঃ সুনানু ইবনু মাজাহ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং ৮৫৬, পৃষ্ঠা নং ৩২৭, প্রকাশনী - ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ)।


২। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ


حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلاَّلُ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو مُسْهِرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ صَالِحِ بْنِ صُبَيْحٍ الْمُرِّيُّ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَىْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى آمِينَ فَأَكْثِرُوا مِنْ قَوْلِ آمِينَ " .


ইহূদীরা তোমাদের আমীন বলায় যত বেশি ঈর্ষান্বিত হয়, আর কোন জিনিসে তত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাই তোমরা অধিক পরিমাণে আমীন বলো।


অতএব, মুসলিম ভাই ও বোনদের প্রতি আবেদন যে, আপনারা গোঁড়ামী বাদ দিয়ে সঠিক দ্বীন হিসেব তথা ইসলাম মাযহাবে প্রবেশ করুন। কেননা প্রকৃত ইসলাম মাযহাব বলতে বুঝায় - যাবতীয় শির্‌কী কার্যাবলী থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহ্‌ (سبحانه وتعالى) কে একক ও অদ্বিতীয় বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস ও স্বীকার করা এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এর নির্দেশিত পন্থায় আল্লাহ্‌র আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতি পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা। মানবজাতির জন্য আল্লাহ্‌র মনোনীত একমাত্র সঠিক পথ বা দ্বীন হলো ইসলাম। তাই এ কারনেই মানবজীবনের সকল দিক বিভাগ যেমনঃ ব্যক্তিগত, পারিবারিক সামজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, তামুদ্দনিক এবং বৈশ্বিক সর্বত্র বিস্তৃত।


পৃথিবীতে বসবাসের সূচনা হয়েছিল আবুল বাশার আদম (عليهم السلام) হতে। তাঁর ওপর আল্লাহতায়ালার বিধান নাজিল থেকে ইসলামের যে বিকাশ শুরু হয়েছিল সাইয়েদেনা মুহাম্মদ (ﷺ) - এর মাধ্যমে শান্তিময় জীবন যাপনের বিধিবিধান হিসেবে আল্লাহর আখেরী কিতাব চূড়ান্ত কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন,


الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا سورة المائدة


“আজ আমি ইসলামী দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের জন্য নাজিল হওয়া অহির ধারা পরিসমাপ্তি করলাম আর একমাত্র ইসলামকে তোমাদের সকলের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করে দিলাম।”


উপরোক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, আমাদের অনেক মুসলিম ভাই আছেন যারা অপর কোন মুসলিম ভাই যদি সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার পরে উচ্চস্বরে আমিন বলে তাহলে তাদের অন্তরে ঘা লাগে। ভাই এটা কিন্তু ভাল লক্ষন নয়। আমরা অনেকে হয়তো বিভিন্ন কারণে বা অজুহাতে এই জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতে পারি না। কিন্তু আমার আরেক ভাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নতকে ভালবেসে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতেছে। আমরা অপছন্দ করবো কোন যুক্তিতে? - হানাফী মাযহাবে নেই বলে?


রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) এর সুন্নত হানাফী মাযহাবে না থাকলে কি মূল্যায়ন পাওয়ার যোগ্য নয়? তাহলে নিম্নের এই হাদীস দেখুন এবং নিজের মধ্যে যদি এই স্বভাব থাকে তাহলে পরিবর্তন করুন। পালন করতে পারেন না কমপক্ষে বিরোধীতা না করার চেষ্টা করুন। আর আমাদের ভাই যারা জোরে আমিন বলেন তাদেরকেও বলবো যে, যেসব ভাই জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করেন তারা যেন যেসব ভাই চুপি চুপি আমিন বলেন তাদের সাথে ঝগড়া না করতে এবং ঘৃনা না করতে। পারলে সুন্দর করে বুঝাবেন। যদি মানে তো আলহামদুলিল্লহ আর না মানলেও আল-হামদু-লিল্লাহ। - না মানলে আল-হামদু-লিল্লাহ - এইজন্য যে আল্লাহ আপনাকে যে সুন্নত পালন করার তাওফীক দিয়েছেন তা তাদেরকে দেন নি। আর উপরে আলোচিত হাদীসগুলো দ্বারা প্রমানিত হয় যে, তারা মুসলিম নামধারী হয়েও প্রকৃত মুসলিম না কারন তারা ইহুদী তথা খ্রীষ্টান। কারন জেহরী ছ্বলাতে জোরে আমীন বললে হাদীস অনুযায়ী ইহুদী আর খ্রীষ্টানরা ঈর্ষান্বিত হয়।


কেননা সরল সঠিক পথ চেনা কঠিন কাজ। তাই আল্লাহ্ তা’আলা সূরা ফাতেহার পরবর্তী আয়াতে এ পথের বাস্তব আদর্শ এবং যারা ঐ পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের পরিচয় আমাদের সামনে তুলে ধরে। সূরা ফাতেহার ৭ম আয়াত হলো - হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঐ ব্যক্তিদের পথে পরিচালিত কর, যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছো। তাদের পথে নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং পথভ্রষ্ট।


صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ


- তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।


ব্যাখ্যাঃ বান্দার এ কথার উপর মহান আল্লাহ বলেন, 'এটা আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দার জন্য ঐ সব কিছুই রয়েছে যা সে চাইবে।' এ আয়াতটি সীরাতে মুসতাকীমের তাফসীর এবং ব্যাকরণবিদ বা নাহবীদের নিকট এটা 'সীরাতে মুসতাকীম' হতে বদল হয়েছে এবং আতফ্‌ বায়ানও হতে পারে। আল্লাহ তা'আলাই এ সম্পর্কে সবচাইতে ভাল জানেন। আর যারা আল্লাহর পুরস্কার লাভ করেছে তাদের বর্ণনা সূরা-ই-নিসার মধ্যে এসেছে। ইরশাদ হচ্ছেঃ 'এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হয়, এরূপ ব্যক্তিগণও ঐ মহান ব্যক্তিগণের সহচর হবেন যাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ। আর ঐ মহাপুরুষগণ উত্তম সহচর। এ অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ হতে এবং সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথষ্টে।' (৪ : ৬৯-৭০)


হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে আল্লাহ! আপনে আমাকে ঐ সব ফেরেশেতা, নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎলোকের পথ পরিচালিত করুন যাদেরকে আপনে আপনার আনুগত্য ও ইবাদতের কারণ পুরস্কৃত করেছেন। উল্লিখিত আয়াতটি নিম্ন বর্ণিত আয়াতের মত।

"আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। ......" (৪ : ৬৯)


অতএব, হানাফী মাযহাবীরাও ঈর্ষান্বিত হয় ইহুদী আর খ্রীষ্টানদের মত রাসূল (ছাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের হুকুম অমান্য করার কারনে তারাও ইহুদী আর খ্রীষ্টানদের মত পথভ্রষ্ট উপরের আয়াতে তাই আলোচিত হয়েছে। তাছাড়া তাঁরা যে পথভ্রষ্ট তাদের সম্পর্কেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ৮নং আয়াতে বলেছেনঃ


وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ


আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি’, অথচ তারা মুমিন নয়।


সুতরাং, এই বিষয় না বুঝলে তাদেরকে ইহুদী আর খ্রীষ্টান আখ্যায়িত করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ থাকে না কারন তারাও ঈর্ষান্বিত হন এবং রাগান্বিত হন। তারা পথভ্রষ্ট। তাদের থেকে আল্লাহ তুমি হেফাযত কর আর আল্লাহরকাছে প্রার্থনা করব যে,


صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ


- তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয় ..... আমীন।


অতএব, আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকপথে হেদায়ত দান করুন, আমীন।

জান্নাতের হকদার কারা

 #জান্নাত_জাহান্নাম


 

জান্নাতের হকদার কারা? 


 জান্নাতের হকদার সেই মুমিনগণ, যারা কোনদিন কোন কিছুকে আল্লাহর সাথে শরীক করেনি। অর্থাৎ, শির্ক করেনি। অথবা শির্ক করার পর তওবা না করে শির্ক নিয়ে মারা যায়নি।


পক্ষান্তরে যারা শির্ক করে, শির্ক নিয়ে মারা যায়, কুফরী করে, ঈমানের কোন বিষয়কে অস্বীকার বা মিথ্যাজ্ঞান করে, তাদের জন্য জান্নাত হারাম। কুরআন-কারীমে যেখানেই জান্নাতের হকদারদের কথা বলা হয়েছে, সেখানেই কারণ স্বরূপ ঈমান ও নেক আমলকে উল্লেখ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সেই নেক আমলের বিস্তারিত বিবরণও এসেছে। তার কিছু নিম্নরূপঃ


وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هَٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদের শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, যখনই তাদের ফলমূল খেতে দেয়া হবে, তখনই তারা বলবে, আমাদের (পৃথিবীতে অথবা জান্নাতে) পূর্বে জীবিকারূপে যা দেওয়া হত, এ তো তাই। তাদেরকে পরস্পর একই সদৃশ ফল দান করা হবে এবং সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সহধর্মিণীগণ রয়েছে, অধিকন্তু তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে (বাক্বারাহঃ ২৫)


وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا لَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُطَهَّرَةٌ وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে ও ভাল কাজ করে তাদেরকে বেহেশ্তে প্রবেশ করাব; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখানে তাদের জন্য পবিত্র সঙ্গিনী আছে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ঘন ছায়ায় স্থান দান করব। (নিসাঃ ৫৭)


وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ سَنُدْخِلُهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا وَعْدَ اللَّهِ حَقًّا وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللَّهِ قِيلًا


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তাদেরকে বেহেশ্তে প্রবেশাধিকার দান করব; যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য। আর কে আছে আল্লাহ অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী? (নিসাঃ ১২২)


وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ


অর্থাৎ, পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস করেছে (মু’মিন হয়েছে) এবং সৎকাজ করেছে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। (বাক্বারাঃ ৮২)


إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَى رَبِّهِمْ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ


অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে। (হুদঃ ২৩)


وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ


অর্থাৎ, আল্লাহ বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারীদেরকে এমন উদ্যানসমূহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন, যেগুলোর নিম্নদেশে বইতে থাকবে নদীমালা, সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। আরও (প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন) চিরস্থায়ী উদ্যানসমূহে (জান্নাতে আদনে) পবিত্র বাসস্থানসমূহের। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় (নিয়ামত)। এটাই হচ্ছে অতি বড় সফলতা। (তাওবাঃ ৭২)


إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ يَهْدِيهِمْ رَبُّهُمْ بِإِيمَانِهِمْ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ


অর্থাৎ, নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাস করেছে এবং ভাল কাজ করেছে, তাদের প্রতিপালক তাদের বিশ্বাসের কারণে তাদেরকে পথ প্রদর্শন করবেন, শান্তির উদ্যানসমূহে তাদের (বাসস্থানের) তলদেশ দিয়ে নদীমালা প্রবাহিত থাকবে। (ইউনুসঃ ৯)


إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا ٭ أُولَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস রাখে ও সৎকর্ম করে, আমি তাদেরকে পুরস্কৃত করি। যে ভালো কর্ম করে, আমি তার কর্মফল নষ্ট করি না। তাদেরই জন্য আছে স্থায়ী জান্নাত; যার নিম্নদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেথায় তাদেরকে স্বর্ণ-কঙ্কণে অলঙ্কৃত করা হবে, তারা পরিধান করবে সূক্ষ্ণ ও স্থূ্ল রেশমের সবুজ বস্ত্র ও সমাসীন হবে সুসজ্জিত আসনে; কত সুন্দর সে পুরস্কার ও কত উত্তম সে আশ্রয়স্থল। (কাহ্‌ফঃ ৩০-৩১)


وَمَنْ يَأْتِهِ مُؤْمِنًا قَدْ عَمِلَ الصَّالِحَاتِ فَأُولَئِكَ لَهُمُ الدَّرَجَاتُ الْعُلَا * جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَزَاءُ مَنْ تَزَكَّى


অর্থাৎ, আর যারা তাঁর নিকট বিশ্বাসী হয়ে ও সৎকর্ম করে উপস্থিত হবে, তাদের জন্য আছে সমুচ্চ মর্যাদাসমূহ। স্থায়ী জান্নাত যার নিচে নদীমালা প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আর এই পুরস্কার তাদেরই যারা পবিত্র। (ত্বাহাঃ ৭৫-৭৬)


বলে রাখা ভাল যে, আমল নেল, কর্ম সৎ বা কাজ ভাল তখন হয় যখন সে কাজে আল্লাহ খুশি হন, তা বিশুদ্ধচিত্তে আল্লাহরই জন্য এবং মুহাম্মাদী তরীকা অনুযায়ী করা হয়। এই তিনটের মধ্যে যে কোন একটি কোন কাজে না পাওয়া গেলে সে কাজ ভাল কাজ নয়।


কখনো জান্নাত যাওয়ার কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, তারা মুসলমান ছিল।


يَا عِبَادِ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمُ الْيَوْمَ وَلَا أَنْتُمْ تَحْزَنُونَ ٭ الَّذِينَ آمَنُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا مُسْلِمِينَ ٭ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ أَنْتُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ تُحْبَرُونَ


অর্থাৎ, হে আমার দাসগণ! আজ তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা দুঃখিতও হবে না। যারা আমার আয়াতে বিশ্বাস করেছিলে এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) ছিলে। তোমরা এবং তোমাদের সহধর্মিণীগণ সানন্দে জান্নাতে প্রবেশ কর। (যুখরূফঃ ৬৮-৭০)


কখনো এর কারণ স্বরূপ বলা হয়েছে, তারা আল্লাহ্‌র ইবাদতে আন্তরিক ছিল অথবা তাঁরা আল্লাহ্‌র খাঁটি বান্দা ছিল।


إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ ٭ أُولَئِكَ لَهُمْ رِزْقٌ مَعْلُومٌ ٭ فَوَاكِهُ وَهُمْ مُكْرَمُونَ ٭ فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ


অর্থাৎ, তবে যারা আল্লাহর বিশুদ্ধ-চিত্ত দাস, তারা নয়। তাদের জন্য আছে নির্ধারিত রুযী। বহু ফলমূল এবং তারা হবে সম্মানিত, সুখময় বাগানসমূহে। (স্বা-ফফাতঃ ৪০-৪৩)


কখনো জান্নাতের হকদারদের বিভিন্ন ইবাদতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ ٭ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ٭ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ


অর্থাৎ, কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহ বিশ্বাস করে, যাদেরকে ওর দ্বারা উপদেশ দেওয়া হলে তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং অহংকার করে না। তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময় স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কি (পুরস্কার) লুকিয়ে রাখা হয়েছে। (সাজদাঃ ১৫-১৭)


কখনো আপদে-বিপদে ও বালা-মসীবতে ধৈর্য ও আল্লাহ্‌র উপর ভরসা রাখার বিনিময়ে জান্নাত লাভের কথা বলা হয়েছে,


وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمْ مِنَ الْجَنَّةِ غُرَفًا تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ ٭ الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহে স্থান দান করব; যার নিচে নদীমালা প্রবাহিত থাকবে, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। সৎকর্মপরায়ণদের পুরস্কার কত উত্তম! যারা ধৈর্য অবলম্বন করে ও তাদের প্রতিপালকের ওপর নির্ভর করে। (আনকাবুতঃ ৫৮-৫৯)


কখনো ঈমান ও দ্বীনের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত ও অটল থাকার বিনিময়ে জান্নাত লাভের কথা বলা হয়েছে।


إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ (30) نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ (31) نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ (32)


অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’ তারপর তাতে অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট ফিরিশতা অবতীর্ণ হয় (এবং বলে), ‘তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ নাও। ইহকালে আমরা তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও; সেখানে তোমাদের জন্য সমস্ত কিছু রয়েছে যা তোমাদের মন চায়, যা তোমরা আকাঙ্ক্ষা কর। চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু আল্লার পক্ষ হতে এ হবে আপ্যায়ন। (হা-মীম সাজদাহঃ ৩০-৩২)।


إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (13) أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ خَالِدِينَ فِيهَا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (14)


অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা বলে, ‘আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ’ অতঃপর এই বিশ্বাসে অবিচলিত থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। --এটাই তাদের কর্মফল। (আহক্বাফঃ ১৩-১৪)


কখনো বিনীত হওয়ার বিনিময়ে জান্নাত লাভের কথা বলা হয়েছে।


إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَى رَبِّهِمْ أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ


অর্থাৎ, নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করেছে এবং সৎকার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের কাছে বিনত হয়েছে, তারাই হবে জান্নাতবাসী; তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে। (হুদঃ ২৩)


কখনো আল্লাহ-ভীতিকে জান্নাত-লাভের কারণ বলা হয়েছে।


وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ


অর্থাৎ, আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দু’টি (জান্নাতের) বাগান। (রাহমানঃ ৪৬)


অনুরূপভাবে কাফেরদের সাথে অন্তরঙ্গতা না করা এবং নিকটাত্মীয় হলেও তাদের সাথে ভালোবাসা না রাখা জান্নাত যাওয়ার একটি কারণ। (মুজাদালাহঃ ২২)


একই সঙ্গে একাধিক সর্মকে জান্নাত যাওয়ার অসীলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। (রা’দঃ ১৯-২৪, মু'মিনুনঃ ১-১১, মাআরিজঃ ২২-৩৫)।


হাদীসেও স্পষ্টভাবে কোন কোন কাজের কাজীকে জান্নাতী বলা হয়েছে। অবশ্য প্রত্যেক কাজের সাথে ঈমান হল পূর্বশর্ত। উদাহরণ স্বরূপ যেমনঃ


“হে মানুষ! তোমরা সালাম প্রচার কর, অন্নদান কর, জ্ঞাতি-বন্ধন অক্ষুন্ন রাখ এবং লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন তোমরা নামায পড়। তাহলে তোমরা নির্বিঘ্নে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকেম, সহীহ তারগীব ৬১০নং)


“জান্নাতী হল তিন প্রকার ব্যক্তি; ন্যায়পরায়ণ দানশীল তওফীকপ্রাপ্ত শাসক, দয়াবান এবং প্রত্যেক আত্মীয় তথা মুসলিমের প্রতি কোমল-হৃদয়। আর (অশ্লীলতা ও যাচ্ঞা) থেকে পবিত্র সন্তানবান ব্যক্তি।” (মুসলিম)


“আল্লাহ সুবহানাহু অতাআলা ঐ দুটি লোককে দেখে হাসেন, যাদের মধ্যে একজন অপরজনকে হত্যা করে এবং দুজনই জান্নাতে প্রবেশ করবে। নিহত ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করা অবস্থায় কোন কাফের কর্তৃক) হত্যা করে দেওয়া হল। পরে আল্লাহ তাআলা হত্যাকারী কাফেরকে তওবা করার তাওফীক প্রদান করেন। ফলে সে ইসলাম গ্রহণ করে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে যায়।” (বুখারী-মুসলিম)


“তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্তের (ফরয) নামায পড়, তোমাদের রমযান মাসের রোযা রাখ, তোমাদের মালের যাকাত আদায় কর এবং তোমাদের নেতা ও শাসকগোষ্ঠীর আনুগত্য কর (যদি তাদের আদেশ শরীয়ত বিরোধী না হয়), তাহলে তোমরা তোমাদের প্রভুর জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী)


“একদা এক ব্যক্তি পথে চলছিল। তাকে খুবই পিপাসা লাগল। অতঃপর সে একটি কূপ পেল। সুতরাং সে তাতে নেমে পানি পান করল। অতঃপর বের হয়ে দেখতে পেল যে, (ওখানেই) একটি কুকুর পিপাসার জ্বালায় জিভ বের করে হাঁপাচ্ছে ও কাদা চাটছে। লোকটি (অন্তরে) বলল, পিপাসার তাড়নায় আমি যে পর্যায়ে পৌছেছিলাম, কুকুরটিও সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে। অতএব সে কূপে নামল তারপর তার চামড়ার মোজায় পানি ভর্তি করল। অতঃপর সে তা মুখে ধরে উপরে উঠল এবং কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার এই আমলকে কবুল করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।” সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! চতুষ্পদ জন্তুর প্রতি দয়া প্রদর্শনেও কি আমাদের সওয়াব হবে? তিনি বললেন, “প্রত্যেক জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনে নেকী রয়েছে।”


বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে, “আল্লাহ তাআলা তার এই আমলকে কবুল করলেন অতঃপর তাকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।”


‘“আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। যে (পৃথিবীতে) রাস্তার মধ্য হতে একটি গাছ কেটে সরিয়ে দিয়েছিল, যেটি মুসলিমদেরকে কষ্ট দিচ্ছিল।” (মুসলিম)।


“যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা (অর্থাৎ, ফজর ও আসরের নামায পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (বুখারী-মুসলিম)।


“চল্লিশটি সৎকর্ম আছে তার মধ্যে উচ্চতম হল, দুধ পানের জন্য (কোন দরিদ্রকে) ছাগল সাময়িকভাবে দান করা। যে কোন আমলকারী এর মধ্য হতে যে কোন একটি সৎকর্মের উপর প্রতিদানের আশা করে ও তার প্রতিশ্রুত পুরস্কারকে সত্য জেনে আমল করবে, তাকে আল্লাহ তার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (বুখারী)।


“যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার করবে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সাথে কোন জিনিসকে অংশীদার করবে (এবং তওবা না করে ঐ অবস্থাতেই সে মৃত্যুবরণ করবে) সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম)।


“যে ব্যক্তির শেষ কথা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে (অর্থাৎ এই কলেমা পড়তে পড়তে যার মৃত্যু হবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (আবু দাউদ, হাকেম)।


এক ব্যক্তি নিবেদন করল, “হে আল্লাহর রসূল! আমি এই (সুরা) কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি।” তিনি বললেন, “এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।” (তিরমিযী, বুখারী বিচ্ছিন্ন সনদে)


একটি লোক নবী (ﷺ)-কে বলল, আমাকে এমন একটি আমল বলুন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে।' তিনি বললেন, “আল্লাহর বন্দেগী করবে, আর তাঁর সাথে কোন কিছুকে অংশীদার স্থির করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখবে।” (বুখারী, মুসলিম)।


“যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত অঙ্গ (জিহ্বা) ও দুপায়ের মাঝখানের অঙ্গ (লজ্জাস্থান)এর ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখবেন, সে জান্নাত প্রবেশ করবে।” (তিরমিযী হাসান)।


“আমার প্রত্যেকটি উম্মত বেহেস্তে প্রবেশ করবে, তবে সে নয় যে, (বেহেশ্তে প্রবেশে) অস্বীকার করবে।” বলা হল, অস্বীকার আবার কে করবে হে আল্লাহর রসূল?!” তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করবে, সে বেহেশ্তে প্রবেশ করবে। আর যে আমার নাফরমানি করবে, সেই আসলে (বেহেশ্তে প্রবেশে) অস্বীকার করবে।” (বুখারী ৭২৮০নং)


একদা এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসুল! আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দেন; যা করলে আমি জান্নাত প্রবেশ করতে পারব।” তিনি বললেন, “তুমি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক (অংশী) করো না; যদিও তোমাকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। তোমার মাতা-পিতার আনুগত্য কর; যদিও তারা তোমাকে তোমার ধন-সম্পদ এবং সমস্ত কিছু থেকে দূর করতে চায়। আর ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করো না; কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করে তার উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়।” (ত্বাবরাণীর আউসাত্ব, সহীহ তারগীব ৫৬৬ নং)


“যে ব্যক্তি নিয়মনিষ্ঠভাবে দিরাত্রে বারো রাকআত নামায পড়বে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; যোহরের (ফরয নামাযের) পুর্বে (এক সালামে) চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরেবের পর দুই রাকআত, এশার পর দুই রাকআত এবং ফজরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকআত।” (নাসাঈ, এবং শব্দগুলি তারই, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, সহীহ তারগীব ৫৭৭নং)


“মহিলা যখন তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায আদায় করে, তার রম্যান মাসের রোযা পালন করে, (অবৈধ যৌনাচার থেকে) তার যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে এবং তার স্বামীর কথা ও আদেশমত চলে, তখন তাকে বলা হয়, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা তুমি সেই দরজা দিয়েই জান্নাতে প্রবেশ কর।” (ইবনে হিব্বান, সহীহুল জামে’ ৬৬০ নং)


#কবরজীবন

আমি মিলাদ ক্বিয়াম করি না কিন্তু

 #আমি_মিলাদুন্নবী_পালন_করি_না। কিন্তু পরিবারের বাকী সবাই তা পালন করে। তারা বলেন: আমার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসি না। এ বিষয়ে কোন উপদেশ আছে কী?


 


আলহামদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)।


এক:


প্রিয় ভাই, আপনি এ বিদআতটি পরিহার করে উত্তম কাজটি করেছেন যে বিদআতটি অভ্যাসের মত মানুষের মাঝে বিস্তার লাভ করেছে। যারা আপনাকে নবীর অনুসরণের ঘাটতি উল্লেখ করে অপবাদ দিল অথবা ইসলামী আদর্শের উপর আপনার অবিচলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল আপনি সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার দরকার নেই। এমন কোন রাসূল নেই যাঁর সাথে লোকেরা তিরস্কার করেনি বা তাঁর বিবেক-বুদ্ধি ও দ্বীনদারির উপর অপবাদ দেয়নি। আল্লাহ তাআলা বলেন: “এমনিভাবে, তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রাসূল আগমন করেছে, তারা বলেছে যাদুকর কিংবা উন্মাদ।”[সূরা যারিয়াত, আয়াত: ৫২] নবীদের জীবনে আপনার জন্য উত্তম আদর্শ। সুতরাং আপনি যে কষ্ট পাচ্ছেন এতে ধৈর্য ধারণ করুন এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের প্রত্যাশা করুন।


দুই:


আপনার জন্য নসিহত হচ্ছে- আপনি তাদের সাথে কোন আলোচনা-পর্যালোচনা, তর্ক-বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন। যদি এদের মধ্যে জাগ্রত বিবেকের কেউ থাকে যে কথা শুনে ও বুঝতে চেষ্টা করে তাহলে তার সাথে আলোচনা করতে পারেন। বাছাই করে এ ধরণের ব্যক্তিদেরকে আপনি মিলাদের স্বরূপ, এর হুকুম, এটি সঠিক না হওয়ার দলিল জানাতে পারেন। তাদের কাছে আপনি নবীকে অনুসরণ করার মর্যাদা ও বিদআত প্রচলন করার খারাপ দিকটি তুলে ধরতে পারেন। যদি আপনি এমন কাউকে দেখেন তাহলে তাদের সাথে নিম্নোক্ত পন্থায় সংলাপ করতে পারেন এবং তাদেরকে নসিহত করতে পারেন।


১. তারা যেখানে শেষ করেছে আমরা সেখান থেকে শুরু করব। তারা আপনাকে বলেছে: আপনার ইসলাম নতুন ইসলাম। আমরা বলব: কোনটা আগে শুরু হয়েছে- মিলাদ করা; নাকি মিলাদ না করা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক ন্যায়বান ও বিবেকবান ব্যক্তির উত্তর হবে: যারা মিলাদ পালন করে না তারাই আগে। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম উবাইদি যুগ পর্যন্ত মিলাদ করেনি। উবাইদিদের পর মিলাদ করা শুরু হয়েছে। সুতরাং কার ইসলাম নতুন?!


২. আমরা যদি দেখি- কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালবাসে? সাহাবায়ে কেরাম; নাকি তাদের পরবর্তী যামানার লোকেরা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান লোকের জবাব হবে: সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বেশি ভালবেসেছে এবং বেশি সম্মান দিয়েছে। তারা কি মিলাদ পালন করেছেন?! মিলাদপালনকারী এ লোকদের পক্ষে কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের সাথে পাল্লা দেয়া সম্ভব?!


৩. আমরা যদি প্রশ্ন তুলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার অর্থ কী? প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়বান ব্যক্তির মতে, নবীর আদর্শের অনুসরণ ও তাঁর প্রদর্শিত পথে চলা। যদি মিলাদপালনকারী এ লোকগুলো তাদের নবীর আদর্শ আঁকড়ে ধরত এবং তাঁকে অনুকরণ করে পথ চলত তাহলে রাসূলের প্রেমিক সাহাবায়ে কেরাম ও নবীর অনুসারীগণ যা করেছেন এদের জন্যেও তা তা করা-ই যথেষ্ট হত এবং তারা বুঝতে পারত যে, পূর্ববর্তীদের অনুকরণ করার মধ্যেই কল্যাণ; আর পরবর্তীদের নবপ্রচলনের মধ্যেই অকল্যাণ।


কাযী ইয়ায (রহঃ) বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসার আলামত শীর্ষক অধ্যায়ে বলেন: “যে ব্যক্তি কাউকে ভালবাসে সে তাকে অগ্রাধিকার দেয়। তার সাথে সাদৃশ্য অর্জনকে প্রাধান্য দেয়। তা না হলে সে ভালবাসা সত্য নয়; বরং নিছক দাবিমাত্র। যে ব্যক্তি সত্যিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবাসে এর আলামত তার মধ্যে দেখা যেতে হবে।


প্রথম আলামত হচ্ছে: সুসময়ে, দুঃসময়ে, কর্মোদ্দীপনা ও অলসতা সর্বাবস্থায় তাঁর অনুকরণ, তাঁর আদর্শের অনুসরণ, তাঁর কথা-কাজ-নির্দেশের অনুগমন, তাঁর নিষেধগুলো পরিহার, তাঁর শিষ্টাচারগুলো গ্রহণ। এর প্রমাণ রয়েছে আল্লাহর বাণীতে “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর; এতে করে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপরাশি মার্জনা করে দিবেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী, দয়ালু।[সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১]


তাঁর শরিয়তকে অগ্রাধিকার দেয়া, আত্মপ্রবৃত্তি ও নিজ-মতের পরিবর্তে তাঁর শরিয়তের অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: “যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদ্বীনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে।” [সূরা হাশর, আয়াত: ৯]


আল্লাহর রেজামন্দি হাছিলের জন্য বান্দাকে নারাজ করা:


যে ব্যক্তি এসব গুণে গুণান্বিত সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে পূর্ণ ভালবাসে। যে ব্যক্তি এসব ক্ষেত্রে কিঞ্চিত ঘাটতি করে তার ভালবাসাতে ঘাটতি আছে; তবে সেও তাঁদেরকে ভালবাসে। [আস-শিফা বি তারিফি হুকুকিল মুস্তাফা (২/২৪-২৫)]


৪. আমরা যদি নবীর মিলাদ বা জন্মতারিখ নিয়ে পর্যালোচনা আসি- এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সাব্যস্ত কিনা? বিপরীত দিকে তাঁর মৃত্যু তারিখ নিয়েও পর্যালোচনা করি এ তারিখ সাব্যস্ত কিনা? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক বিবেকবান ও ন্যায়বান ব্যক্তির উত্তর হবে- নবীর জন্মতারিখ সাব্যস্ত হয়নি। কিন্তু নবীর মৃত্যুতারিখ সুনিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত হয়েছে। আল্লাহ তার প্রতি শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন। যদি আমরা সিরাত গ্রন্থগুলো পর্যালোচনা করি তাহলে দেখব সিরাত লেখকগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্মতারিখের ব্যাপারে একাধিক অভিমত ব্যক্ত করেছেন:


১. সোমবার ২ রা, রবিউল আউয়াল।


২. ৮ই, রবিউল আউয়াল।


৩. ১০ই, রবিউল আউয়াল।


৪. ১২ই. রবিউল আউয়াল।


৫. যুবায়ের ইবনে বাক্কার বলেন: তিনি রমজান মাসে জন্মগ্রহণ করেছেন।


যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মতারিখ জানার উপর দ্বীনের কোন কিছু নির্ভর করত তাহলে সাহাবায়ে কেরাম অবশ্যই তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেন অথবা তিনি নিজেই তাদেরকে এ ব্যাপারে অবহিত করতেন। অথচ এর কোনটি ঘটেনি।


পক্ষান্তরে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লামের মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে কোন মতভেদ হয়নি। তাঁর মৃত্যু তারিখ হিজরী ১১ সালের ১২ই রবিউল আউয়াল।


এরপর আমরা যদি দেখি এ বিদআতপন্থী লোকগুলো কখন মিলাদুন্নবী (নবীর জন্মবার্ষিকী) পালন করে? তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন।


উবাইদি সম্প্রদায় (যারা বংশ পরিচয়ে জালিয়াতি করে নিজেদেরকে ফাতেমা রাঃ এর সাথে সম্পৃক্ত করে ফাতেমী দাবী করে) এভাবে এ কর্মের প্রচলন করে গেছেন এবং লোকেরা নির্বোধের মত এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছে। অথচ তারা ছিল জিন্দিক, নাস্তিক বা ধর্মত্যাগী সম্প্রদায়। তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যুতে ফুর্তি করার জন্য এমন একটি উপলক্ষের উদ্ভব করেছে। এর জন্য তারা জমায়েত হত এবং খুশি প্রকাশ করত। আর নির্বোধ মুসলমানদেরকে এভাবে ধোকা দিত যে, তাদের অনুকরণে এ অনুষ্ঠান করার মানে- নবীর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা। এভাবে তারা তাদের নিকৃষ্ট ও মন্দ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ও ভালবাসার অর্থকে বিকৃত করণে সফল হল। তাদের কাছে নবীর ভালবাসা হচ্ছে- মিলাদের কাসিদা পড়া, সিরনি ও মিষ্টি বিতরণ, নাচের আয়োজন, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, ঢোল বাজানো, বেপর্দাপনা, পাপাচার, বিভিন্ন বিদআতী দুআ ও শিরকী কথাবার্তা, যেগুলো মিলাদের মজলিসে বলা হয়ে থাকে।


এ বিদআতের কদর্যতা এ ওয়েব সাইটের 10070, 13810 ও 70317 নং প্রশ্নোত্তরে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।


এ বিদআতের অপনোদনমূলক আলোচনা জানতে এই লিংকে গিয়ে শাইখ সালেহ আল-ফাউযানের “হুকমুল ইহতিফাল বিল মাউলিদিন্নাবি” নামক বইটি পড়া যেতে পারে।


তিন:


প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণের উপর ধৈর্য ধারণ করুন। তাঁর বিরুদ্ধাচারণকারীদের সংখ্যাধিক্য দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা আপনাকে ইলমে দ্বীন অর্জন ও মানুষের উপকার করার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ধরণের ইস্যু যেন পরিবারের সদস্যদের থেকে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করে না রাখে। কারণ তারা এমন লোকদের তাকলিদ করছেন যারা মিলাদের জলসাগুলো জায়েয হওয়ার, এমনকি মুস্তাহাব হওয়ার পক্ষে ফতোয়া দেয়। তাই এ বিদআতের বিরোধিতা করার সময় তাদের সাথে কোমল হওয়া উচিৎ। কথা, কাজ ও আখলাকের সৌন্দর্যতা ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট থাকা উচিৎ। নবীর অনুসরণের প্রভাব আপনি আপনার আচার-আচরণ, ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে তাদের কাছে ফুটিয়ে তুলুন। আমরা আপনার জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিকের দুআ করছি।


আল্লাহই ভাল জানেন।


http://islamqa.info/bn/125690


মিলাদ কেন বিদআত

 আমি জানি, ইসলামে ইবাদত হিসেবে যা কিছুর নব উদ্ভাবন করা হয় সেটা- বিদআত। এটা যদি সঠিক হয় তাহলে আমরা মিলাদকে বিদআত বলছি কেন? মিলাদ একটি সাধারণ অনুষ্ঠান; এর সাথে ইবাদতের কোন সম্পর্ক নেই। কেউ কেউ দলিল দেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য শুধু দুইটি ঈদ বা উৎসবের বিধান দিয়েছেন। এ দুইটি ঈদ ছাড়া আর কোন উৎসব উদযাপন করা যাবে না। আমি এখানে পুনরায় বলতে চাই- মিলাদ একটি সাধারণ অনুষ্ঠান; এতে তো কোন ইবাদত সম্পর্কিত কোন রেওয়াজ রীতি নেই। এটি অন্য যে কোন জন্মদিবস পালনের মত।


আলহামদুলিল্লাহ।


নবীর মিলাদ বা জন্মদিবস পালন নিছক কোন অনুষ্ঠান নয় যে, এর সাথে ইবাদতের কোন সম্পর্ক নেই। বরং যারা পালন করে তাদের কাছে এটি “ধর্মীয় ঈদ বা উৎসব” তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তা পালন করে। এর ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলো।


এক:


যারা এটি পালন করে তারা নবীর ভালবাসা থেকে পালন করে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসা সবচেয়ে উত্তম ইবাদত, এটি ইসলামের সবচেয়ে মজবুত ভিত্তি। সুতরাং এ চেতনা থেকে যা পালন করা হয় সেটা নিঃসন্দেহে ইবাদত হিসেবেই পালন করা হয়। তাই বলা যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবীগণ তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতেন, বেশি সম্মান করতেন, তাঁর অধিকার সম্পর্কে পরবর্তীদের চেয়ে বেশি ওয়াকিবহাল ছিলেন। সুতরাং তাঁদের নিকট যা কিছু দ্বীনের অংশ ছিল না; সেটা তাঁদের পরেও দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।


আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এ ভিত্তি দিয়ে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের বিপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যারা মসজিদে গোল হয়ে বসে সম্মিলিতভাবে পাথর টুকরা দিয়ে গুণে গুণে যিকির করা শুরু করেছিল: ঐ সত্তার কসম, যাঁর হাতে রয়েছে আমার প্রাণ; তোমরা কি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রজন্মের চেয়ে উত্তম কোন প্রজন্মের মধ্যে আছ? নাকি তোমরা পথভ্রষ্টতার দরজা উন্মোচন করছ!! তারা বলল: আবু আব্দুর রহমান, আমাদের উদ্দেশ্য নেকির কাজ করা। তিনি বললেন: কত লোক এমন আছে যে ভাল কাজ করতে চায় কিন্তু সঠিক দিশা পায় না।[সুনানে দারেমী ২১০]


দুই:


প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোন মৌসুম উদযাপন করাটাই ঈদ বা উৎসব। এটি ধর্মীয় নিদর্শন। এ কারণে দেখা যায় ধর্মাবলম্বীরা তাদের উৎসব পালনকে পবিত্র জ্ঞান করে এবং সেটা উদযাপন করে।


শাইখ নাসের আল-আকল (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন:


ঈদ বা উৎসব ধর্মীয় নিদর্শন ও ইবাদত; যেমন- কিবলা, নামায, রোজা। এগুলো নিছক অভ্যাস নয়। এসব ক্ষেত্রে কাফেরদের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ ও অনুকরণ অতি মারাত্মক ও ভয়াবহ। অনুরূপভাবে যে উৎসব পালন করার বিধান আল্লাহ দেননি সেটা জারী করা মানে আল্লাহর নাযিলকৃত ওহির বাইরে গিয়ে বিধান দেয়া, আল্লাহর নামে ইলম ছাড়া কথা বলা, তাঁর নামে মিথ্যাচার এবং ধর্মের মধ্যে নবআবিষ্কার। [ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম, পৃষ্ঠা-৫৮ থেকে সমাপ্ত]


তিন:


আবু দাউদ (১১৩৪) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় এলেন সে সময় মদিনাবাসীরা বিশেষ দুটি দিনে খেলাধুলা করত। (তা দেখে) তিনি বললেন: “এ দুটি দিনের বিশেষত্ব কি?” তারা বলল: আমরা জাহেলী যুগেও এ দুটি দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি বললেন: “আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে এ দুই দিনের পরিবর্তে আরও ভাল দুটি দিন দিয়েছেন- ঈদুল আযহা ও ঈদুল ফিতর।”[আলবানী সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন]


যদি কোন উৎসব পালন অভ্যাসগত ব্যাপার হত, এর সাথে ইবাদতের কোন সম্পর্ক না থাকত, কাফেরদের সাথে সাদৃশ্যের কোন বিষয় না থাকত তাহলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তি করতে দিতেন। যেহেতু বৈধ খেলাধুলা ও আনন্দ-ফুর্তি করতে কোন অসুবিধা নেই। সুতরাং খেলাচ্ছলে কোন উৎসব উদযাপন করা থেকে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে বারণ করলেন, যে উদযাপনের মধ্যে নৈকট্য বা উপাসনার কিছু ছিল না অতএব, নৈকট্য ও ইবাদতের নিয়তে, বা এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অথবা এর উপর ভিত্তি করে যদি সেটা উদযাপন করা হয় তাহলে সেটার হুকুম কি হতে পারে? যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয় সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের বিষয়ের মধ্যে নতুন কিছু চালু করে যা এতে নেই সেটা প্রত্যাখ্যাত।”[সহিহ বুখারী (২৬৯৭) ও সহিহ মুসলিম (১৭১৮)]


আরও জানার জন্য 10843 ও 128530 নং প্রশ্নোত্তর দেখুন।


আল্লাহই ভাল জানেন।


http://islamqa.info/bn/219307


মিলাদ পড়া কি?

 সমকালীন_প্রচলিত_বিদআত - প্রথমঃ মিলাদ মাহফিল

প্রথমঃ মিলাদ মাহফিল


মিলাদ মাহফিল করা বিদআত। হিজরী চতুর্থ শতাব্দীতে উবায়দীরা এ বিদআতের প্রবর্তন করে। বর্তমান ও পুর্বেকার সকল উলামায়ে কেরাম একে বাতিল বলে আখ্যায়িত করেছেন। যারা এ ধরণের বিদআতের প্রবর্তন করেছে ও আমল করেছে, উলামায়ে কেরাম তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই মিলাদ মাহফিল করা বৈধ নয়। কারণ :


১ম কারণঃ যে সকল কুসংস্কারের ব্যাপারে শরীয়তে কোন প্রমাণ নেই; তার অন্যতম হল মিলাদ মাহফিল। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এ প্রসঙ্গে কোন বক্তব্য, আমল বা সমর্থন পাওয়া যায় না।


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


وَمَآ ءأتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ  فَانْتَهُوا.(الحشر: 7)


অর্থঃ রাসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক।[1]


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرجُواللهَ وَالْيَومَ اْلاخِرَ وَ ذَكَرَ اللهَ كَثِيْرًا.(الأحزاب: 21)


অর্থঃ অবশ্যই আল্লাহর রাসূলের জীবনের মাঝে রয়েছে উত্তম আদর্শ ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কিয়ামত দিবসে (মুক্তির) আশা করে। আর অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করে।[2]


রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ


مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ.(بخاري و مسلم)


 অর্থঃ যে আমাদের দ্বীনের মধ্যে এমন কিছু প্রবর্তন করে যা এর অন্তর্ভূক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।[3]


২য় কারণঃ খোলাফায়ে রাশেদীন এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর অন্যান্য সাহাবীগণ মিলাদ মাহফিল করেননি। এমন কি তার দাওয়াতও দেননি, অথচ তারাই হচ্ছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর পর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত।


খুলাফায়ে রাশেদীনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ


فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ تَمَسَّكُوا بِهَا وَعَضُّوا عَلَيْهَا بِالنَّوَاجِذِ وَإِيَّاكُمْ وَمُحْدَثَاتِ الْأُمُورِ فَإِنَّ كُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ .(أبو داود)&


অর্থঃ তোমাদের জন্য আবশ্যক আমার ও আমার পরবর্তী হেদায়াত প্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদার সুন্নাতকে এমনভাবে আঁকড়ে ধরা যেভাবে দাঁত দিয়ে কোন জিনিস দৃঢ়ভাবে কামড়ে ধরা হয়। আর শরীয়তে নিত্য নতুন জিনিস আবিস্কার করা হতে বেঁচে থাক। কেননা সকল নবসৃষ্ট বস্ত্তই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।[4]


৩য় কারণঃ মীলাদ মাহফিল করা বক্রতা সৃষ্টিকারী পথভ্রষ্টদের প্রথা। এ প্রথাকে সর্ব প্রথম ফাতেমী ও উবাইদী গোত্রের লোকেরা হিজরী চতুর্থ শতাব্দীতে প্রবর্তন করে। তারা নিজেদেরকে ফাতেমা (রা) এর সাথে সম্পৃক্ত করে, যা অন্যায়, অযেŠক্তিক ও অপবাদ ব্যতীত আর কিছুই নয়। মূলতঃ তারা ইহুদী। কেউ বলেন, তারা অগ্নিপুজক, আবার কেউ বলেন, তারা মুলহিদীন বা নাস্তিক। তাদের প্রথম ব্যক্তি হল, মুইজুদ্দীন ওবায়দী। সে পাশ্চাত্যের অধিবাসী। সেখান থেকে সে ৩৬১ হিজরীর শাওয়াল মাসে মিশরে আগমন করে এবং ৩৬২ হিজরী রমজান  মাস পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে।[5]


এখন কোন বুদ্ধিমানের জন্য এটা কি উচিত হবে যে, সে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাত ছেড়ে একজন ইহুদীর অনুসরণ করবে? (আদৌ নয়)।


৪র্থ কারণঃ আল্লাহ্  তা‘আলা এ দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন।


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


اَلْيَوْمَ  أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكَمْ نعْمَتِيْ وَ رَضِيْتُ لَكُم الإِسْلامَ دِيْنًا.(المائدة: 3)


অর্থঃ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম ও আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।[6]


রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের প্রচার করেছেন। জান্নাতে পৌঁছার সকল পথ ও জাহান্নাম হতে বাঁচার সকল উপায় উম্মতের সামনে বর্ণনা করে দিয়েছেন।


একথা সকলের জানা যে, আমাদের রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল নবীগণের সর্দার এবং তিনি সর্বশেষ নবী, পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন এবং আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণ কামনা করেছেন। সুতরাং যদি মীলাদ মাহফিল দ্বীনের অংশ হতো আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের কারণ হতো, তাহলে অবশ্যই তিনি তা উম্মতের জন্য বর্ণনা করতেন বা তাঁর জীবনে একবার হলেও আমল করে দেখাতেন।


রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  বলেনঃ


مَا بَعَثَ اللهُ مِنْ نَّبِيِّ إِلَّا كَانَ حَقًا عَلَيْهِ أَنْ يَّدُلَّ أُمَّتَهُ عَلَى خَيْرِ مَايَعْلَمُهُ لَهُمْ، وَيُنْذِرَهُمْ شَرَّ مَا يَعْلَمُهُ لَهُمْ. (مسلم)


অর্থঃ আল্লাহ যত নবী প্রেরণ করেছেন তাদের সকলের উপর দায়িত্ব ছিল উম্মতকে ভাল কাজের দিক নির্দেশনা দেয়া ও অন্যায় কাজ হতে ভীতি প্রদর্শন করা।[7]


৫ম কারণঃ মিলাদ মাহফিলের মত বিদআত আমলের আবিস্কারের মাধ্যমে এ কথা প্রতীয়মাণ হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা দ্বীনকে এ উম্মতের জন্য পরিপূর্ণ করেননি, তাই দ্বীনের পরিপূরক কিছু আবিস্কারের প্রয়োজন হয়েছে। তেমনি একথাও বুঝা যায় যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতের জন্য কল্যাণকর সকল বিষয়ের তাবলীগ বা প্রচার করেননি। যে কারণে পরবর্তীতে আল্লাহর অনুমোদন ব্যতিরেকে শরীয়তে নতুন কিছু আবিস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এর মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়। এটা চুড়ান্ত পর্যায়ের অন্যায় ও ভুল। এটা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপর অভিযোগ। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ ও বান্দাদের জন্য সকল নিয়ামত সস্পূর্ণ করে দিয়েছেন।


৬ষ্ঠ কারণঃ এ উম্মতের বড় বড় আলেমগণ কুরআন ও হাদীসের ভিত্তিতে মীলাদ মাহফিলের প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তারা বিদআত পরিহার করতে ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণ করতে বলেন এবং কথা, কাজ ও আমলে তাঁর বিরোধিতা করা হতে সতর্ক করেন।


৭ম কারণঃ মীলাদ মাহফিলের দ্বারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর ভালবাসা অর্জিত হয় না বরং তাঁর অনুসরণ ও সুন্নাত অনুযায়ী আমলের দ্বারা তা অর্জিত হয়।


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


قُلْ إِن كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَ يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ  وَاللهُ غَفُورُ رَّحِيْمٌ. (آل عمران: 31)


অর্থঃ )হে নবী( আপনি বলে দিন, তোমরা যদি আল্লাহর ভালবাসার দাবি কর, তাহলে আমার অনুসরণ কর। ফলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের সকল গুনাহ মাফ করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।[8]


 ৮ম কারণ : মীলাদ মাহফিল, জসনে জুলুস ও ঈদে মিলাদুন্নবী ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের উৎসবের সাদৃশ। আর ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে ও তাদের অনুসরণ করতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন।[9]  


৯ম কারণঃ সারাদেশে মিলাদ মাহফিলে অধিক হারে লোক সমাগম দ্বারা জ্ঞানী লোকেরা কখনও প্রভাবিত হয় না। কেননা সঠিক ও সত্য হওয়াটা মানুষের আধিক্যতা দ্বারা বুঝা যায় না বরং শরীয়তের দলিলের মাধ্যমে বুঝা যায়।


আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


وَإِن تُطِعْ أكْثَرَ مَن فِى اْلأَرْضِ يُضِّلُوكَ عَن سَبِيلِ اللهِ. (الأنعام: 116)


অর্থঃ যদি আপনি দুনিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকদের অনুকরণ করেন, তাহলে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ হতে বিচ্যুত করে দেবে।[10]


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


وَمَآأكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بمؤمنين. (يوسف: 103)


অর্থঃ যদিও আপনি মনে প্রাণে চান তবুও অধিকাংশ লোক ঈমানদার নয়।[11]


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


وَ قَلِيلٌ مِّنْ عِباَدِيَ الشَّكُور.(السبا: 13)


অর্থঃ আমার বান্দাদের কম সংখ্যকই কৃতজ্ঞ।[12]


১০ম কারণঃ শরয়ী নীতিমালার যে সকল ব্যাপারে মানুষ বাক-বিতন্ডা ও ঝগড়া করে, সে সকল বিষয়ে কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাতে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করা উচিৎ।


আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


يَا أَيُّها الّذِينَ ءَامَنُوا اَطِيعُوا اللهَ وَاَطِيعُوا الرَّسُولَ وأًولِى الأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَىْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَي اللهِ وَ الرَّسٌولِ إِن كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الأَخِر ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأوِيلاً.(النساء: 59)


অর্থঃ হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হও এবং তোমাদের নেতৃবৃন্দের আনুগত্য কর। অতঃপর যদি তোমাদের মধ্যে কোন বিষয়ে মত বিরোধ দেখা দেয় তবে আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তিত হও যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। এটাই কল্যাণকর ও শ্রেষ্ঠতর।[13]


আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেনঃ


وَمَا اخْتَلَفْتُمْ  فِيهِ مِن شَيءِ فَحُكْمُهُ إِلَى اللهِ.(الشورى: 10)


অর্থঃ তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন ওর মীমাংসাতো আল্লাহরই নিকট।[14]


নিঃসন্দেহে যে ব্যক্তি মীলাদ মাহফিলের ব্যাপারে আল্লাহ্ ও রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিক নির্দেশনার প্রতি ধাবিত হবে, সে জানতে পারবে, আল্লাহ তাআলা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন।


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ


وَمَآ ءأتَاكمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَـكُمْ عَنْهُ  فَانْتَهُوا. (الحشر: 7)


অর্থঃ রাসূল তোমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা হতে নিষেধ করেছেন তা হতে বিরত থাক।[15]


আল্লাহ তাআলা দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মীলাদ মাহফিলের জন্য কাউকে নির্দেশ দেননি, তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণও তা কখনও করেননি। সুতরাং মীলাদ মাহফিল দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং তা নব্যসৃষ্ট বিদআত।


১১তম কারণঃ সোমবার সিয়াম পালন শরীয়ত সিদ্ধ। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সোমবারের সিয়াম সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, ذلِكَ يَوْمٍ وُلِدْتُ فِيْهِ، وَيَوْمَ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلي فِيْه.    (مسلم) অর্থঃ এটা এমন দিন যে দিন আমি জন্ম গ্রহণ করেছি, আমি নবুওয়াত প্রাপ্ত হয়েছি অথবা আমার প্রতি সেদিন কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।[16]


সুতরাং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আদর্শ হল সোমবার সিয়াম পালন করা, তবে এ উপলক্ষে মীলাদ মাহফিল করা বৈধ নয়।


১২তম কারণঃ ঈদে মীলাদুন্নবী উদযাপন করা গর্হিত ও নিষিদ্ধ বিষয়াবলীর অন্যতম। আর তা বুঝা যায় এ ধরণের মাহফিলে উপস্থিত হওয়া দ্বারা। এ ধরণের গর্হিত কাজের কিছু উদাহরণ নিম্নে উল্লেখ করা হল।


১। মীলাদে অংশগ্রহণকারীদের রচিত অধিকাংশ কবিতা ও স্তুতিমূলক বাক্যগুলোতে শিরকী ও বাড়াবাড়িমূলক কথা পাওয়া যায়। অথচ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর প্রশংসা করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে বলেন,


لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ فَقُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُه. (بخاري)


অর্থঃ তোমরা আমার প্রশংসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন খ্রীষ্টানরা ইবনে মারইয়ামের প্রশংসার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। সুতরাং তোমরা বল আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।[17]


২। মীলাদ মাহফিলে অনেক ক্ষেত্রে হারাম কাজ হয়ে থাকে। যেমন নারী-পুরুষ মিলেমিশে বসা, গান-বাদ্য করা, মদ-গাজা সেবন ইত্যাদি। আর কখনও কখনও এতে শিরকে আকবরও সংঘটিত হয়। যেমন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে বা অন্য কোন অলীর কাছে সাহায্য চাওয়া, আল্লাহর কিতাবের অসম্মান করা, কুরআনের মজলিসে ধূমপান করা ইত্যাদি। মীলাদের দিনগুলোতে উচ্চস্বরে মসজিদে জিকির করা ও সুর করে শরীয়ত পরিপন্থী কবিতা আবৃত্তি করা। যা হক্কানী আলেমগণের ঐকমত্যে শরীয়ত সম্মত নয়।


৩। মীলাদ মাহফিলে আরো কিছু গর্হিত কাজ সংঘটিত হয়। যেমন, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জন্মের ঘটনা আলোচনা কালে তাঁর সম্মানার্থে দাঁড়ান এই বিশ্বাস নিয়ে যে, তিনি এ মীলাদ মাহফিলে উপস্থিত হয়েছেন। তাই তাঁর অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়িয়ে যায়। আর এ সবই চরম ভ্রান্তি ও মূর্খতা, যা নিন্দিত। কেননা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিয়ামতের পূর্বে কবর থেকে বের হবেন না। কোন লোকের সাথে সাক্ষাত করবেন না, কোন সম্মেলনে উপস্থিত হবেন না। বরং তিনি কিয়ামত পর্যন্ত নিজ কবরে অবস্থান করবেন। আর তাঁর রুহ ইল্লিয়্যিনের সর্বোচ্চ স্তরে তাঁর প্রভুর কাছে সম্মানিত স্থানে রয়েছে।


আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেনঃ


ثُمَّ إِنَّكم بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُون، ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ.(المؤمنون:15-16)


অর্থঃ এরপর তোমরা অবশ্যই মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের পুনরুত্থিত করা হবে।[18]


রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ


أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ وَأَوَّلُ شَافِعٍ وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ.


(مسلم)


 অর্থঃ আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা, সর্ব প্রথম কবর থেকে উত্থিত ব্যক্তি, সর্বপ্রথম সুপারিশকারী এবং সর্বপ্রথম আমার সুপারিশ গৃহিত হবে।[19]


উক্ত আয়াত, হাদীস এবং এ জাতীয় আয়াত ও হাদীসসমূহ থেকে বুঝে আসে যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্যান্য মৃতদের ন্যায় মৃত। তিনি কিয়ামতের দিন কবর থেকে উত্থিত হবেন।


আব্দুল আযীয ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে বায বলেন, এ বিষয়ে সমস্ত আলেমের ঐকমত্য রয়েছে, এতে কারো মতবিরোধ নেই।[20]


[1] হাশর : ৭

[2] আহযাবঃ ২১

[3] বুখারী : ২৬৯৭ ও মুসলিম : ১৭১৮

[4] আবু দাউদ:৪৬০৭

[5] বিদায়া ওয়ান নিহায়া-ইবনে কাসীর:১১/২৭২-৭৩

[6] মায়েদা: ৩

[7] মুসলিম:১৮৪৪

[8] আলে-ইমরান: ৩১

[9] যাদুল মায়াদ-ইবনে কাইয়্যিম (র): ১/৫৯

[10] আনআম: ১১৬

[11] ইউসুফ: ১০৩

[12] সাবা: ১৩

[13] নিসা: ৫৯

[14] আশ-শুরা: ১০

[15] হাশরঃ ৭

[16] মুসলিম :

[17] বুখারী : ৩৪৪৫

[18] মুমিনুন : ১৫-১৬

[19] মুসলিম : ২২৭৮

[20] আত-তাহযীর মিনাল বিদআঃ ১৪


জান্নাতের খুশবু বৃক্ষ পশু পাখি

 #জান্নাত_জাহান্নাম

জান্নাতে বৃক্ষ-সংখ্যা বৃদ্ধি করার উপায় 


 

জান্নাতে বৃক্ষ-সংখ্যা বৃদ্ধি করার উপায় 


পরিবেশ রক্ষা ও সুন্দর করার জন্য গাছ লাগানো একটি উত্তম কাজ। দুনিয়ায় গাছ লাগিয়ে আমরা পরিবেশকে মনোরম করতে পারি। আমরা গাছ থেকে অক্সিজেন পাই, ছায়া পাই, খাদ্য পাই, সুগন্ধ পাই। আমরা বলে থাকি, গাছ লাগান, গাছ বাঁচান। একটি গাছ, একটি প্রাণ। গাছ লাগিয়ে আমরা আমাদের বাড়ির বাগানকে সুন্দর করি। কিন্তু পরকালের বাড়িকে সুন্দর করার কথা কি ভাবি?


আমরা কি জানি যে, সেখানেও গাছ লাগানো যাবে এই দুনিয়া থেকেই, গাছ থাকলেও গাছ আরো বৃদ্ধি করা যাবে?


মহানবী (ﷺ) (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ পড়ে, তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি খেজুর বৃক্ষ রোপণ করা হয়।” (তিরমিযী)


তিনি আরো বলেছেন, “মিরাজের রাতে ইব্রাহীম (আঃ)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ঘটে। তিনি বললেন, হে মুহাম্মাদ! তুমি তোমার উম্মতকে আমার সালাম পেশ করবে এবং তাদেরকে বলে দেবে যে, জান্নাতের মাটি পবিত্র ও উৎকৃষ্ট, তার পানি মিষ্ট। আর তা একটি বৃক্ষহীন সমতলভূমি। আর ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ ও ‘আল্লাহু আকবার’ হল তার রোপিত বৃক্ষ।” (তিরমিযী)


 

জান্নাতের খোশবু 


জান্নাতে থাকবে নানান ধরনের খোশবু। কস্তুরী, জাফরান, কপূর ইত্যাদি। খোশবুর কথা মহান আল্লাহ বলেন,


فَأَمَّا إِن كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ (88) فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ (89)


অর্থাৎ, সুতরাং যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের একজন হয়, তাহলে (তার জন্য রয়েছে) আরাম, খোশবু ও সুখময় বেহেস্ত। (ওয়াক্বিআহঃ ৮৮-৮৯)


মহানবী (ﷺ) বলেন, “জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ খোশবু হল মেহেন্দি (ফুল)।” (ত্বাবারানী, সিঃ সহীহাহ ১৪২০নং)


 

জান্নাতের পশু-পক্ষী 


জান্নাতে পাখী আছে। সেই পাখীর মাংস জান্নাতীদের খাদ্য হবে। মহান আল্লাহ বলেন,


وَلَحْمِ طَيْرٍ مِّمَّا يَشْتَهُونَ


অর্থাৎ, (তাদের সেবায় ঘোরাফেরা করবে চির কিশোররা) তাদের পছন্দমত পাখীর মাংস নিয়ে। (ওয়াক্বিআহঃ ২১)।


হাদীসে এসেছে, কাউসারের নিকট এমন পাখী আছে, যাদের গর্দান উটের মত। (তিরমিযী)


আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, একটি লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে লাগামযুক্ত উটনী নিয়ে হাজির হল এবং বলল, 'এটি আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্য দান করা হল)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “কিয়ামতের দিনে তোমার জন্য এর বিনিময়ে সাতশ’টি উটনী হবে; যার প্রত্যেকটি লাগামযুক্ত হবে।” (মুসলিম ৫০০৫নং)


মহানবী (ﷺ) বলেছেন, “ছাগল-ভেড়ার খামারে নামায পড় এবং তার পোঁটা মুছে (যত্ন কর)। কারণ, তা জান্নাতের অন্যতম পশু।” (বাইহাক্বী, সিঃ সহীহাহ ১১২৮নং)


#কবরজীবন

জান্নাতের জ্যোতি সুগন্ধি বৃক্ষরাজি

 #জান্নাত_জাহান্নাম

জান্নাতের #জ্যোতি 


 

জান্নাতের জ্যোতি 


জান্নাতে থাকবে নিরবচ্ছিন্ন আলো। সেখানে চন্দ্র-সূর্য নেই, রাত-দিন নেই। সূর্যের তাপ নেই। মহান আল্লাহ বলেন,


وَأَنَّكَ لَا تَظْمَأُ فِيهَا وَلَا تَضْحَىٰ


অর্থাৎ, সেখানে তুমি পিপাসার্ত হবে না এবং রোদ্র-ক্লিষ্টও হবে না। (ত্বাহাঃ ১১৯)।


مُّتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ ۖ لَا يَرَوْنَ فِيهَا شَمْسًا وَلَا زَمْهَرِيرًا


অর্থাৎ, সেখানে তারা সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে, তারা সেখানে রৌদ্রতাপ অথবা অতিশয় শীত বোধ করবে না। (দাহরঃ ১৩)


প্রয়োজনে হয়তো দরজা বা পর্দা লাগিয়ে অন্ধকার করা যাবে। অবশ্য বিশেষ জ্যোতি দ্বারা সকাল-সন্ধ্যা চেনার অন্য ব্যবস্থা থাকবে। (দ্রঃ ইবনে কাসীর ৪/৪৭১, মাজমুউ ফাতাওয়া ৪/৩১২)


 

জান্নাতের #সুগন্ধি 


জান্নাত সুগন্ধময় জায়গা। তার সুগন্ধ কেবল ভিতরেই নয়, বরং তার বাইরে বহু দুরবর্তী স্থান থেকে পাওয়া যাবে। কত দূরবর্তী জায়গা থেকে পাওয়া যাবে, তার উল্লেখ কতিপয় হাদীসে এসেছে।


রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, দুই প্রকার জাহান্নামী আমি (এখন পর্যন্ত) প্রত্যক্ষ করিনি (অর্থাৎ, পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে) : (১) এক সম্প্রদায় যাদের কাছে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা জনগণকে প্রহার করবে। (২) এক শ্রেণীর মহিলা, যারা (এমন নগ্ন) পোশাক পরবে যে, (বাস্তবে) উলঙ্গ থাকবে, (পর পুরুষকে) নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করবে ও নিজেরাও (পর পুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের হিলে যাওয়া কুঁজের মত। এ ধরনের মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যাবে। (মুসলিম)


আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি পরের বাপকে নিজের বাপ বলে দাবী করে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ তার সুগন্ধি ৫০০ বছরের দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।” (আহমাদ ২/১৭ ১, ইবনে মাজাহ ২৬১১, সহীহুল জামে ৫৯৮৮নং)


আহমাদের এক বর্ণনায় আছে ৭০ বছরের দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে। (সঃ তারগীব ১৯৮৮নং)


আল্লাহর রসূল (ﷺ) বলেন, “যে ব্যক্তি কোন সন্ধি অথবা চুক্তিবদ্ধ (যিম্মী) মানুষকে হত্যা করবে, সে ব্যক্তি জান্নাতের সুবাসও পাবে না। অথচ তার সুবাস ৪০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যাবে।” (আহমাদ, বুখারী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সহীহুল জামে’ ৬৪৫৭নং)


এক বর্ণনায় ৭০ ও ১০০ বছরে অতিক্রম্য দূরবর্তী স্থানের কথা আছে। (সঃ তারগীব ২০৪৪নং)


 

জান্নাতের #বৃক্ষরাজি ও #ফলমূল 


জান্নাতের আছে, সারি সারি নানা রকম বৃক্ষরাজি। আছে নানা রকমের ফলমূল। কিছু বৃক্ষ ও ফলমূলের কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন,


إِنَّ لِلْمُتَّقِينَ مَفَازًا (31) حَدَائِقَ وَأَعْنَابًا (32)


অর্থাৎ, নিশ্চয়ই আল্লাহভীরুদের জন্যই রয়েছে সফলতা; উদ্যানসমূহ ও নানাবিধ আঙ্গুর। (নাবা’ ৩১-৩২) ।


فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ


অর্থাৎ,উভয় (বাগানে) রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই প্রকার। (রাহমানঃ ৫২)


فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ


অর্থাৎ, সেখানে রয়েছে ফলমূল খেজুর ও ডালিম। (রাহমানঃ ৬৮)


وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ (27) فِي سِدْرٍ مَّخْضُودٍ (28) وَطَلْحٍ مَّنضُودٍ (29)


অর্থাৎ, আর ডান হাত-ওয়ালারা, কত ভাগ্যবান ডান হাত-ওয়ালারা! (যাদেরকে ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে। তারা থাকবে এক বাগানে) সেখানে আছে কাটাহীন কুলগাছ। কাঁদি ভরা কলাগাছ। (ওয়াক্বিআহঃ ২৭-২৯)


وَفَاكِهَةٍ مِّمَّا يَتَخَيَّرُونَ


অর্থাৎ, তাদের পছন্দ মত ফলমূল। (ওয়াক্বিআহঃ ২০)।


مُتَّكِئِينَ فِيهَا يَدْعُونَ فِيهَا بِفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ وَشَرَابٍ


অর্থাৎ, সেখানে তারা আসীন হবে হেলান দিয়ে, সেখানে তারা যত খুশী ফলমূল ও পানীয়ের জন্য আদেশ দেবে। (স্বাদঃ ৫১)


يَدْعُونَ فِيهَا بِكُلِّ فَاكِهَةٍ آمِنِينَ


অর্থাৎ, সেখানে তারা নিশ্চিন্তে বিবিধ ফলমূল আনতে বলবে। (দুখনঃ ৫৫)


إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ (41) وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ (42) كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ (43) إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ (44)


অর্থাৎ, আল্লাহ-ভীরুরা থাকবে ছায়া ও ঝরনাসমূহে। তাদের বাঞ্ছিত ফলমুলের প্রাচুর্যের মধ্যে। তোমরা তোমাদের কর্মের পুরস্কার স্বরূপ তৃপ্তির সাথে পানাহার কর। এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। (মুরসালাতঃ ৪১-৪৪)


জান্নাতের ফলসমূহের নাম দুনিয়ার ফলের মত হলেও, সে সবের স্বাদ কিন্তু এক নয়। যেহেতু জান্নাতের সবকিছুই অতুলনীয়, বেনযীর।


وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هَٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا


অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদের শুভ সংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত; যার তলদেশে নদী প্রবাহিত, যখনই তাদের ফলমূল খেতে দেওয়া হবে, তখনই তারা বলবে, আমাদেরকে (পৃথিবীতে অথবা জান্নাতে) পূর্বে জীবিকারূপে যা দেওয়া হত, এ তো তাই। তাদেরকে পরস্পর একই সদৃশ ফল দান করা হবে। (বাক্বারাহঃ ২৫) 


(সদৃশ) এর অর্থ হয়তোবা জান্নাতের সমস্ত ফলের আকার-আকৃতি এক রকম হবে অথবা তা দুনিয়ার ফলের মত দেখতে হবে। তবে এ সাদৃশ্য কেবল আকার ও নাম পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। নচেৎ জান্নাতের ফলের স্বাদের সাথে দুনিয়ার ফলের স্বাদের কোন তুলনাই নেই। জান্নাতের নিয়ামতের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, “(এমন নিয়ামত) যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরে তার সঠিক ধারণা উদয় হয়নি।”


জান্নাতের সমস্ত ফল-গাছই বারোমেসে। জান্নাতের ফল এমন মৌসমী ফল হবে না যে, মৌসম শেষ হয়ে গেলেই সেই ফল আগামী মৌসম পর্যন্ত বিলুপ্ত হয়ে যাবে। জান্নাতের ফল এ ধরনের ফুল-মুকুলের ঋতুর অধীনস্থ হবে না। বরং তা সদা-সর্বদা পাওয়া যাবে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন,


وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ (32) لَّا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ (33)


অর্থাৎ, প্রচুর ফলমূল; যা শেষ হবে না ও নিষিদ্ধও হবে না। (ওয়াক্বিআহঃ ৩২-৩৩)।


مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ ۖ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا ۚ تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا ۖ وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ


অর্থাৎ, সাবধানীদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তার বিবরণ এইরূপ ও ওর পাদদেশে নদী প্রবাহিত, ওর ফলমূলসমূহ ও ছায়া চিরস্থায়ী; যারা সাবধানী এটা তাদের পরিণাম। আর অবিশ্বাসীদের পরিণাম হল জাহান্নাম। (রা’দঃ ৩৫)


জান্নাতের ফল গাছের ডালে ঝুলে থাকলেও তা জান্নাতীর হাতের নাগালের মধ্যে থাকবে। তা পেড়ে খেতে কোন প্রকারের কষ্টবরণ বা শ্রমব্যয় করতে হবে না। মহান আল্লাহ বলেন,


قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ


অর্থাৎ, যার ফলরাশি ঝুলে থাকবে নাগালের মধ্যে। (হা-ক্বাহঃ ২৩)


وَدَانِيَةً عَلَيْهِمْ ظِلَالُهَا وَذُلِّلَتْ قُطُوفُهَا تَذْلِيلًا


অর্থাৎ, সন্নিহিত বৃক্ষছায়া তাদের উপর থাকবে এবং ওর ফলমূল সম্পূর্ণরূপে তাদের আয়ত্তাধীন করা হবে। (দাহরঃ ১৪)


مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ ۚ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ


অর্থাৎ, সেখানে তারা হেলান দিয়ে বসবে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায়, দুই বাগানের ফল হবে তাদের নিকটবর্তী। (রাহমানঃ ৫৪)


জান্নাতের বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা ও পত্র-পল্লবের কথাও মহান আল্লাহর আল-কুরআনে উল্লেখ করেছেন। এক স্থানে বলেছেন,


ذَوَاتَا أَفْنَانٍ


অর্থাৎ, উভয়ই বহু ডালপালাবিশিষ্ট (গাছে পরিপূর্ণ)। (রাহমানঃ ৪৮)


অন্য স্থানে বলেছেন,


مُدْهَامَّتَانِ


অর্থাৎ, ঘন সবুজ এ (জান্নাতের) বাগান দু’টি। (রাহমানঃ ৬৪)


আর তার জন্যই তার ছায়া হবে ঘন। ছায়ার কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহ বলেছেন,


وَنُدْخِلُهُمْ ظِلًّا ظَلِيلًا


অর্থাৎ, তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ঘন ছায়ায় স্থান দান করব। (নিসাঃ ৫৭)


জান্নাতে সূর্য নেই। সুতরাং সেখানে সর্বদা সর্বস্থানে ছায়া আর ছায়া। মহান আল্লাহ বলেন,


وَظِلٍّ مَّمْدُودٍ


অর্থাৎ, সম্প্রসারিত ছায়া। (ওয়াক্বিআহঃ ৩০)


إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلَالٍ وَعُيُونٍ


অর্থাৎ, আল্লাহ-ভীরুরা থাকবে ছায়া ও ঝরনাসমূহে। (মুরসালাতঃ ৪১)।


هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ


অর্থাৎ, তারা এবং তাদের স্ত্রীগণ সুশীতল ছায়ায় থাকবে এবং হেলান দিয়ে বসবে সুসজ্জিত আসনে। (ইয়াসীনঃ ৫৬)


জান্নাতে আছে বিশাল বিশাল গাছ। একটি গাছের কথা উল্লেখ করে নবী (ﷺ) বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় কোন আরোহী উৎকৃষ্ট, বিশেষভাবে প্রতিপালিত হালকা দেহের দ্রুতগামী ঘােড়ায় চড়ে একশো বছর চললেও তা অতিক্রম করতে সক্ষম হবে না।” (বুখারী-মুসলিম)।


জান্নাতে ‘তুবা’ নামের একটি গাছ আছে। এ গাছটি ১০০ বছরের অতিক্রম্য জায়গা জুড়ে অবস্থিত। এর মোছা থেকে জান্নাতীদের বস্ত্র নির্মিত হবে। (আহমাদ, সিঃ সহীহাহ ১৯৮৫নং)।


জান্নাতুল মাওয়ার কাছে ‘সিদরাতুল মুন্তাহা’র কথা কুরআনে এসেছে,


وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَىٰ (13) عِندَ سِدْرَةِ الْمُنتَهَىٰ (14) عِندَهَا جَنَّةُ الْمَأْوَىٰ (15) إِذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَىٰ (16) مَا زَاغَ الْبَصَرُ وَمَا طَغَىٰ (17) لَقَدْ رَأَىٰ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِ الْكُبْرَىٰ (18)


অর্থাৎ, নিশ্চয়ই সে তাকে আরেকবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুনতাহার নিকট। যার নিকট অবস্থিত (জান্নাতুল মাওয়া) বাসােদ্যান। যখন (বদরী) বৃক্ষটিকে, যা আচ্ছাদিত করার ছিল তা আচ্ছাদিত করল, তার দৃষ্টি বিভ্রম হয়নি, দৃষ্টি লক্ষ্যচ্যুতও হয়নি। নিঃসন্দেহে সে তার প্রতিপালকের মহান নিদর্শনাবলী দেখেছিল। (নাজমঃ ১৩-১৮)


এটা হল মিরাজের রাতে যে জিবরীল (আঃ)-কে তাঁর আসল আকৃতিতে দেখেছিলেন, তারই বর্ণনা। এই সিদৰাতুল মুন্তাহা’ হল ষষ্ঠ বা সপ্তম আসমানে অবস্থিত একটি কুল (বরই) গাছ। যার ফলগুলি কলসের মত বড় বড় এবং পাতাগুলি হাতির কানের মত ঢােলা ঢােলা। (বুখারী-মুসলিম)


#কবরজীবন

উচ্চস্বরে আমীন বলা যাবে কি

 >>>> জেহরী ছ্বলাতে উচ্চস্বরে আমিন বললে ইহুদী বা খ্রীষ্টানদের অন্তরে ঘা লাগে বা তথাকথিত হানাফী মাযহাবীদের অন্তরেও ঘা লাগে তাদের ...