>>>> জেহরী ছ্বলাতে উচ্চস্বরে আমিন বললে ইহুদী বা খ্রীষ্টানদের অন্তরে ঘা লাগে
বা তথাকথিত হানাফী মাযহাবীদের অন্তরেও ঘা লাগে তাদের সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) এর মন্তব্য জানার চেষ্টা করি? <<<<
পবিত্র কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরা হল, ‘সূরাতুল ফাতেহা’। আর এর মৌলিক আবেদন হল, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন করুন’। এই মৌলিক প্রার্থনা হতে কোন মুছল্লী বিরত থাকতে পারে কি? এছাড়া উক্ত সূরার মাধ্যমে মুছল্লীরা প্রতিনিয়ত ইহুদী-খ্রীস্টানদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে। সেজন্য শেষে দু‘আ কবুলের জন্য উচ্চকণ্ঠে ‘আমীন’ বলে। আর এই আমীনের শব্দ শুনে ইহুদীরা সবচেয়ে বেশী হিংসা করে। কিন্তু লক্ষ লক্ষ মুছল্লী এক সঙ্গে ছালাত আদায় করছে অথচ ইমাম ব্যতীত কোন মুছল্লী কোন রাক‘আতে সূরা ফাতেহা পাঠ করে না। শেষে উচ্চকণ্ঠে আমীনও বলে না। তারা ছালাতের ভিতরে উক্ত প্রার্থনা পরিত্যাগ করলেও ছালাতের পরে প্রচলিত বিদ‘আতী মুনাজাত ছাড়তে চায় না।
অন্যদিকে সূরা ফাতেহা পাঠের বিরুদ্ধে অসংখ্য জাল ও বানোয়াট বর্ণনা তৈরি করে মুছল্লীদেরকে প্রকৃত সত্যের আড়ালে রাখা হয়েছে। ষড়যন্ত্রের শিকড় কি তাহলে এত গভীরে! আল্লাহই সর্বাধিক অবগত। এই প্রসঙ্গে আরও বলা যায় যে, আমাদের অনেক মুসলিম ভাই আছেন যারা অপর কোন মুসলিম ভাই যদি সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার পরে উচ্চস্বরে আমিন বলে তাহলে তাদের অন্তরে ঘা লাগে। ভাই এটা কিন্তু ভাল লক্ষন নয়।
আমরা অনেকে হয়তো বিভিন্ন কারণে বা অজুহাতে এই জেহরী ছ্বলাতে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতে পারি না। কিন্তু আমার আরেক ভাই রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) এর সুন্নতকে ভালবেসে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতেছে। অথচ আমরা সেই প্রকৃত সহীহ হাদীসটিকে অপছন্দ করবো কোন যুক্তিতে?
হানাফী মাযহাবে প্রকৃত হাদীসটিকে পাশ কাটানো হয়েছে বলে বা নেই বলে তাহলে নিম্নের এই সহীহ হাদীস দেখুন এবং নিজের মধ্যে যদি এই স্বভাব থাকে তাহলে পরিবর্তন করুনঃ-
১। আয়েশা (রাঃ) হতে নাবী (ছাঃ) সূত্রে বর্ণিত রাসুল (ছাঃ) বলেছেনঃ
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا سُهَيْلُ بْنُ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله
ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) — আয়েশা (রাঃ) এর সূত্রে নাবী (ছাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “ইয়াহুদীরা তোমাদের কোন ব্যাপারে এত ঈর্ষান্বিত হয় না, যতটা না তারা তোমাদের সালাত ও আমীনের উপর ঈর্ষান্বিত হয়।” (তথ্যসূত্রঃ সুনানু ইবনু মাজাহ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং ৮৫৬, পৃষ্ঠা নং ৩২৭, প্রকাশনী - ইসঃ ফাউঃ বাংলাদেশ)।
২। ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ الْخَلاَّلُ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَأَبُو مُسْهِرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ يَزِيدَ بْنِ صَالِحِ بْنِ صُبَيْحٍ الْمُرِّيُّ، حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَا حَسَدَتْكُمُ الْيَهُودُ عَلَى شَىْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى آمِينَ فَأَكْثِرُوا مِنْ قَوْلِ آمِينَ " .
ইহূদীরা তোমাদের আমীন বলায় যত বেশি ঈর্ষান্বিত হয়, আর কোন জিনিসে তত ঈর্ষান্বিত হয় না। তাই তোমরা অধিক পরিমাণে আমীন বলো।
অতএব, মুসলিম ভাই ও বোনদের প্রতি আবেদন যে, আপনারা গোঁড়ামী বাদ দিয়ে সঠিক দ্বীন হিসেব তথা ইসলাম মাযহাবে প্রবেশ করুন। কেননা প্রকৃত ইসলাম মাযহাব বলতে বুঝায় - যাবতীয় শির্কী কার্যাবলী থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহ্ (سبحانه وتعالى) কে একক ও অদ্বিতীয় বলে মনে-প্রাণে বিশ্বাস ও স্বীকার করা এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এর নির্দেশিত পন্থায় আল্লাহ্র আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর প্রতি পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করা। মানবজাতির জন্য আল্লাহ্র মনোনীত একমাত্র সঠিক পথ বা দ্বীন হলো ইসলাম। তাই এ কারনেই মানবজীবনের সকল দিক বিভাগ যেমনঃ ব্যক্তিগত, পারিবারিক সামজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, তামুদ্দনিক এবং বৈশ্বিক সর্বত্র বিস্তৃত।
পৃথিবীতে বসবাসের সূচনা হয়েছিল আবুল বাশার আদম (عليهم السلام) হতে। তাঁর ওপর আল্লাহতায়ালার বিধান নাজিল থেকে ইসলামের যে বিকাশ শুরু হয়েছিল সাইয়েদেনা মুহাম্মদ (ﷺ) - এর মাধ্যমে শান্তিময় জীবন যাপনের বিধিবিধান হিসেবে আল্লাহর আখেরী কিতাব চূড়ান্ত কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন,
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا سورة المائدة
“আজ আমি ইসলামী দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের জন্য নাজিল হওয়া অহির ধারা পরিসমাপ্তি করলাম আর একমাত্র ইসলামকে তোমাদের সকলের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করে দিলাম।”
উপরোক্ত আলোচনায় বলা যায় যে, আমাদের অনেক মুসলিম ভাই আছেন যারা অপর কোন মুসলিম ভাই যদি সালাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার পরে উচ্চস্বরে আমিন বলে তাহলে তাদের অন্তরে ঘা লাগে। ভাই এটা কিন্তু ভাল লক্ষন নয়। আমরা অনেকে হয়তো বিভিন্ন কারণে বা অজুহাতে এই জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতে পারি না। কিন্তু আমার আরেক ভাই রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর সুন্নতকে ভালবেসে জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করতেছে। আমরা অপছন্দ করবো কোন যুক্তিতে? - হানাফী মাযহাবে নেই বলে?
রাসুলুল্লাহ (ছাঃ) এর সুন্নত হানাফী মাযহাবে না থাকলে কি মূল্যায়ন পাওয়ার যোগ্য নয়? তাহলে নিম্নের এই হাদীস দেখুন এবং নিজের মধ্যে যদি এই স্বভাব থাকে তাহলে পরিবর্তন করুন। পালন করতে পারেন না কমপক্ষে বিরোধীতা না করার চেষ্টা করুন। আর আমাদের ভাই যারা জোরে আমিন বলেন তাদেরকেও বলবো যে, যেসব ভাই জোরে আমিন বলার সুন্নত পালন করেন তারা যেন যেসব ভাই চুপি চুপি আমিন বলেন তাদের সাথে ঝগড়া না করতে এবং ঘৃনা না করতে। পারলে সুন্দর করে বুঝাবেন। যদি মানে তো আলহামদুলিল্লহ আর না মানলেও আল-হামদু-লিল্লাহ। - না মানলে আল-হামদু-লিল্লাহ - এইজন্য যে আল্লাহ আপনাকে যে সুন্নত পালন করার তাওফীক দিয়েছেন তা তাদেরকে দেন নি। আর উপরে আলোচিত হাদীসগুলো দ্বারা প্রমানিত হয় যে, তারা মুসলিম নামধারী হয়েও প্রকৃত মুসলিম না কারন তারা ইহুদী তথা খ্রীষ্টান। কারন জেহরী ছ্বলাতে জোরে আমীন বললে হাদীস অনুযায়ী ইহুদী আর খ্রীষ্টানরা ঈর্ষান্বিত হয়।
কেননা সরল সঠিক পথ চেনা কঠিন কাজ। তাই আল্লাহ্ তা’আলা সূরা ফাতেহার পরবর্তী আয়াতে এ পথের বাস্তব আদর্শ এবং যারা ঐ পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের পরিচয় আমাদের সামনে তুলে ধরে। সূরা ফাতেহার ৭ম আয়াত হলো - হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঐ ব্যক্তিদের পথে পরিচালিত কর, যাদের তুমি অনুগ্রহ দান করেছো। তাদের পথে নয় যারা ক্রোধের শিকার এবং পথভ্রষ্ট।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
- তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।
ব্যাখ্যাঃ বান্দার এ কথার উপর মহান আল্লাহ বলেন, 'এটা আমার বান্দার জন্য এবং আমার বান্দার জন্য ঐ সব কিছুই রয়েছে যা সে চাইবে।' এ আয়াতটি সীরাতে মুসতাকীমের তাফসীর এবং ব্যাকরণবিদ বা নাহবীদের নিকট এটা 'সীরাতে মুসতাকীম' হতে বদল হয়েছে এবং আতফ্ বায়ানও হতে পারে। আল্লাহ তা'আলাই এ সম্পর্কে সবচাইতে ভাল জানেন। আর যারা আল্লাহর পুরস্কার লাভ করেছে তাদের বর্ণনা সূরা-ই-নিসার মধ্যে এসেছে। ইরশাদ হচ্ছেঃ 'এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও রাসূলের অনুগত হয়, এরূপ ব্যক্তিগণও ঐ মহান ব্যক্তিগণের সহচর হবেন যাদের প্রতি আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেছেন, অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ ও নেককারগণ। আর ঐ মহাপুরুষগণ উত্তম সহচর। এ অনুগ্রহ আল্লাহর পক্ষ হতে এবং সর্বজ্ঞ হিসেবে আল্লাহই যথষ্টে।' (৪ : ৬৯-৭০)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে আল্লাহ! আপনে আমাকে ঐ সব ফেরেশেতা, নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎলোকের পথ পরিচালিত করুন যাদেরকে আপনে আপনার আনুগত্য ও ইবাদতের কারণ পুরস্কৃত করেছেন। উল্লিখিত আয়াতটি নিম্ন বর্ণিত আয়াতের মত।
"আর যে কেউ আল্লাহর হুকুম এবং তাঁর রসূলের হুকুম মান্য করবে, তাহলে যাঁদের প্রতি আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, সে তাঁদের সঙ্গী হবে। ......" (৪ : ৬৯)
অতএব, হানাফী মাযহাবীরাও ঈর্ষান্বিত হয় ইহুদী আর খ্রীষ্টানদের মত রাসূল (ছাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের হুকুম অমান্য করার কারনে তারাও ইহুদী আর খ্রীষ্টানদের মত পথভ্রষ্ট উপরের আয়াতে তাই আলোচিত হয়েছে। তাছাড়া তাঁরা যে পথভ্রষ্ট তাদের সম্পর্কেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ৮নং আয়াতে বলেছেনঃ
وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُمْ بِمُؤْمِنِينَ
আর মানুষের মধ্যে কিছু এমন আছে, যারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিনের প্রতি’, অথচ তারা মুমিন নয়।
সুতরাং, এই বিষয় না বুঝলে তাদেরকে ইহুদী আর খ্রীষ্টান আখ্যায়িত করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ থাকে না কারন তারাও ঈর্ষান্বিত হন এবং রাগান্বিত হন। তারা পথভ্রষ্ট। তাদের থেকে আল্লাহ তুমি হেফাযত কর আর আল্লাহরকাছে প্রার্থনা করব যে,
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ
- তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয় ..... আমীন।
অতএব, আল্লাহ আমাদেরকে সঠিকপথে হেদায়ত দান করুন, আমীন।